Wednesday, 14 February 2024

 

বিগত 1500 বছরে বাঙালিরা যে গণহত্যা এবং ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে


আমাদের ইতিহাস, গত 1500 বছর ধরে বাঙালিরা সবচেয়ে বেশি সহিংস, গণহত্যার শিকার এবং পতনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমার কাছ থেকে আমাদের এই চিঠি একটি সংক্ষিপ্ত একটি হবে. আমি উইকিপিডিয়া থেকে রেফারেন্স, কিছু ঐতিহাসিক পাঠ্য বই এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কথা বলব।

যেহেতু আমাদের ইতিহাসের অধিকাংশই 1200 খ্রিস্টাব্দে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণাগার পুড়িয়ে ফেলার বর্বর কাজ থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, তাই এখানে বলা এই শব্দগুলি আমার পাঠকদের অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত।

পাল রাজবংশ ছিল সবচেয়ে পঠিত, জ্ঞানী ও সংস্কৃতিবান বাঙালি সাম্রাজ্যের একটি যার উৎপত্তি হয়েছিল খ্রিস্টীয় ৫ম এবং ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে। এটি পদ্মার তীর থেকে গঙ্গা ডেল্টা বরাবর হিমাচল প্রদেশের হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই সময়ে জনগণের দ্বারা কথিত বাংলা ভাষার উৎপত্তি শুরু হয়েছিল। এই সময়ে বাংলা ভাষা, কৃষি ও বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে। বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা তার গোল্ডেন পিরিয়ডে ছিল। যদিও বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের "দ্য নালদা ইউনিভার্সিটি" [2] এর পাঠ্যক্রমটি কিছুটা আধ্যাত্মিক ছিল, এটি সেই সময়ের সেরা গণিতবিদদের দ্বারাও শোভা পেয়েছে। আমাদের দ্বারা উদ্ভাবিত জিরোটি এই সময়ের মধ্যে ইসলামী আরব ব্যবসায়ীদের দ্বারা বিশ্বে তার পথ খুঁজে পেয়েছিল। গুপ্ত রাজবংশের সুবর্ণ যুগের পর বাঙালি সাম্রাজ্য চিন্তা, আদর্শ, স্থাপত্যের শীর্ষে ছিল।
                                                           চিত্র 1 পাল রাজবংশ

পাল সাম্রাজ্য চিন্তা ও কর্মে বৌদ্ধ ছিল। অহিংসার বৌদ্ধ চর্চা এই মহান রাজ্যের পতন ঘটায়। এই সাম্রাজ্যের পশ্চিমে একটি হুমকি ছিল। ইসলামি আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ইসলাম একের পর এক সংস্কৃতিকে তার ভাঁজে ঢেকে ফেলছিল। এটি ছিল মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ ও পঙ্গু করার যাযাবর সংস্কৃতি।

অহিংসার 500 বছরের বৌদ্ধ চিন্তাধারা এবং প্রক্রিয়া মানুষকে তলোয়ারকে ঘৃণা করে এবং সংস্কৃত অধ্যয়নের দিকে ঝুঁকেছিল। আধুনিক বাঙ্গালী চিন্তাধারা বৌদ্ধ চিন্তাধারার সাথে তার বংশের বেশিরভাগ উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্টের জগতে অহিংসা দর্শন বাঙালির পেশিশক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। যাইহোক, এখনও পর্যন্ত জনগণের মধ্যে মস্তিষ্কের শক্তি অটুট ছিল। লক্ষ্মণ ও বল্লাল সেনার পূর্বাভাস ছিল যে এই দর্শন বাঙ্গালী জনগণের এবং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশকে ইসলামী আক্রমণকারীদের হাতে পতনের দিকে নিয়ে যাবে এবং তারা ঠিকই ছিল। বাঙালী সংস্কৃতির অবক্ষয় ঘটে। বাঙ্গালী নারীদের ধর্ষন করা হয়, ঘরবাড়ি লুট ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়, বাঙ্গালী পুরুষ ও শিশুদের সম্পূর্ণ দাস করা হয়। সেই যুগে মূল ভাষা সংস্কৃত ও পালিকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের মূর্তি-মন্দির, শৈল্পিক উদ্ভাবন ভাঙা হয়েছে, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এটি ছিল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা। এই সময়কালে (900-1200 CE) 90 মিলিয়নেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল।
চিত্র 2 সেন রাজবংশ।

হিন্দু সেন রাজবংশ (চিত্র 2) অগ্রসরমান ইসলামিক গণহত্যাকারী উপজাতিদের থেকে এই গ্রহের শেষ অবশিষ্ট সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষদের রক্ষা করার জন্য বৌদ্ধ রাজাদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কুস্তি করেছিল [৩]। যাইহোক, এটি খুব সামান্য খুব দেরী প্রচেষ্টা ছিল. সেন রাজবংশ মাত্র 200 বছর বেঁচে ছিল এবং তাদের সাথে শেষ বাঙালি সাম্রাজ্যের উপর পর্দা নেমে আসে। সেই শিক্ষা বাঙালিকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
প্রথম এবং সর্বাগ্রে, কোন মূল্যে তলোয়ার ছেড়ে যাবেন না, এবং দ্বিতীয়, আপনার ঐতিহ্য রক্ষার জন্য অন্যান্য হিন্দু রাজা ও রাজ্যের সাথে সহযোগিতা করুন। শেষ বাঙালি সাম্রাজ্য, সেনরা 1200 খ্রিস্টাব্দের দিকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়ে দিয়ে বখতিয়ার খিলজির কাছে পরাজিত হয়েছিল। সবচেয়ে বড় ক্ষতি ছিল এই ইসলামি উন্মাদদের দ্বারা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দা ধ্বংস করা। মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এমন ছিল যে, এখন পর্যন্ত বাঙালিরা নিজ রাজ্যের বাইরে যেতে ভয় পায়।

হিন্দু মন্দির, গ্রাম ও শহরের লুটপাট, নারী ধর্ষণ, শিশু হত্যার বর্ণনা দিতে শব্দ ব্যবহার করা যায় না। ইসলামপন্থী এবং তাদের কমিউনিস্ট সহযোগীরা সেই সময়ে বাঙালি জনগণের ইতিহাসের অনেকটাই মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সালতানাতের 300 বছরের লুণ্ঠন আমাদের ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। চৈতন্য মহাপ্রভু উপলক্ষ্যে আবির্ভূত না হওয়া পর্যন্ত বাঙালিরা কোনো ইতিহাস ছাড়াই, খাদ্য ও সাহস ছাড়াই একটি জাতিতে পরিণত হয়েছিল। তিনি হিন্দু আধ্যাত্মিকতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বাঙালির আত্মাকে অত্যাচার ও ধর্মান্তর থেকে রক্ষা করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সুলতানি রাজবংশের উপর পর্দা চলে আসে। এই সময়ের সাহিত্যিক অবদান ছিল কৃত্তিবাস ওঝার বাংলায় রামায়ণ। তার কারণেই কোনো না কোনোভাবে আমাদের ভাষা টিকে ছিল।

সালতানাতের পর বাঙালিরা কিছুটা দ্বিধায় মুঘলদের মেনে নেয়। কিন্তু এরা ছিল সমান লুণ্ঠনকারী। সুলতানি আমলে তারা ছিল অনেক বর্বর ধর্ষক। যাইহোক, 200 বছর লুণ্ঠনের পর অবশেষে ব্রিটিশদের সাথে আগমন বন্ধ হয়ে যায়। বৃটিশ জনগণ আরেকটি মন্দ নিয়ে এসেছে। খ্রিস্টান মিশনারি। তারাও লুটেরা ছিল কিন্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। এই যুগে তারা যে লুট করেছিল তা আজ অবধি এর জনসংখ্যার খাদ্য যোগায় এবং বাংলার দুর্ভিক্ষের সময় লক্ষ লক্ষ লোককে হত্যা করেছিল। বাঙালি হিন্দুকে অবশ্যই তার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা বাঙালিরা ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের মতো অবতাররা আমাদের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যারা আমাদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছিলেন। কিন্তু দাম ছিল ভারী। আমরা হিন্দুরা সম্মিলিতভাবে আমাদের পবিত্র ভূমি জনগণকে হারিয়েছি। সিন্ধু উপত্যকা এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ইসলামপন্থীদের কাছে হারিয়ে গিয়েছিল।

সাপ আবার ফণা তুলেছে...

আমার বাঙালী বন্ধুরা

তোমরা কমিউনিস্ট, লিবারেল বা সেকুলার নও..তুমি হিন্দু...বাস্তবতা এড়াবে না।


হাত তুলুন... বাহু তুলে নিন... মাথা স্কোয়াশ করুন














1. https://en.wikipedia.org/wiki/Pala_Empire
2. https://en.wikipedia.org/wiki/Nalanda
3. https: //en.wikipedia.org/wiki/Sena_dynasty

Tuesday, 13 February 2024

বাংলার দলিত নির্যাতন মডেল

যারা স্কুল কলেজ আইটি সেক্টর বিভিন্ন বাণী বিপণন বাণিজ্যিক  বা সরকারি সংস্থায় কাজ  করে,  তারা কি  মাঝেমধ্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে তাকায়?   দেখতে পায় যে সকালবেলা সাউথ লাইনের লোকালের কামরায়  বোঝাই হয়ে মানুষ ছুটছে  কলকাতায় কারো বাড়িতে জিগরি করতে,  অথবা সিকিউরিটি গার্ড , দোকানের মজুর  বা কোন ছোট দোকানদার, মুচি, মেথর,  বা ড্রাইভার এর কাজ করতে ? না  তারা দেখেনা |  কিন্তু তাদের  সেবা  নেয় |   জিজ্ঞেস করে  কি দিনে দু'মুঠো ভাত খেতে পেরেছে কিনা?  না করে না !!  হয়তো সেবা নিয়ে  যৎসামান্য  টাকা দেওয়া হয়।  কিন্তু তার সাথে  একরাশ ঘেন্নাও সাথে দেওয়া হয় |   প্রশ্ন উঠছে  ঘেন্নাটা কেন হয়?

ভারতীয় সমাজের এক অদ্ভুত অবস্থা হচ্ছে এই জাতি ব্যবস্থা |  একটি শিশু জন্মাতেই এর শিকার হয় |  এই দ্বিতীয় প্রবাহের   মানুষেরা  যে   আমাদেরই লোক  সেটা এই জাতি ব্যবস্থা ভুলিয়ে দেয় |   আমরা কি দ্বিতীয় প্রবাহের মানুষদের চিনি ?   জানি কি এদের ইতিহাস?   হয়তো চার পাঁচ বছর হাজার বছর আগে  এরাও  কোন রাজবংশ থেকে উদ্ভূত ?   

না

 এদের কোন ইতিহাস নেই |   থাকলেও  সেই ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছে,   গোলামীর প্রথম শর্ত পূরণ করার জন্য |  আচ্ছা কারা এই  বাংলার দ্বিতীয় প্রবাহ  ?   এদের জাতি  পরিচয় আগে আমাদের জানতে হবে।  এই মানুষদের সিংহভাগই হচ্ছেন মাহিষ্য, কৈবর্ত, তেলি,  সদগোপ, বাউরী, বাগদি, কর্মকার নমঃশূদ্র, নাপিত, হরিজন ইত্যাদি।   এই মানুষজন আজ নিজেরাই ইতিহাস   বিমুখ |   এদের আজ ভারতের ও দক্ষিণ এশিয়ার  গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে শুধুমাত্র ভোট বাক্স হিসেবে দেখা হয়।  এদের নেতৃত্ব স্থানীয়  ব্যক্তিরা  কিছু টাকা ও সুবিধার পরিবর্তে  এদের  বাংলার রাজনৈতিক নেতৃত্ব কে বিক্রি করে।   এখানে চেষ্টা করব  এবং আধুনিক ভারতবর্ষের প্রথম ৫০ বছরে কিভাবে এদের ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে |  এই জাতিরা কি বিরোধ করেনি ? বিপ্লবের চেষ্টা করেনি?   করেছে |   কিন্তু যতবারই মুখ তুলেছে।  ততবারই  গণহত্যা, ধর্ষণ  এবং সরকারি অস্পৃশ্যতা মধ্যে  তাদের মুখ বন্ধ করা হয়েছে।  এই শক্তিগুলোকে চেনা  ও এদের প্রতিষ্ঠানগুলো কি চিহ্নিত করা আমাদের প্রথম কর্তব্য।  তার থেকেও বেশি  এই শক্তিগুলোর পিছনে যে বিচারধারা কাজ করে তা আমাদের জানতে হবে | 

প্রথমে আমরা শুনে  নিই  এই দ্বিতীয় প্রবাহের মানুষদের  খবরা খবর।  এই দ্বিতীয় প্রবাহের  সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী  হচ্ছে মাহিষ্য বা কৈবর্ত জাতি |  এই জাতি  দুই বাংলা  যথা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ মিলিয়ে সবচেয়ে প্রাচীন জাতির মধ্যে একটি  জনসংখ্যার নিরিখে দুই বাংলা মিলিয়ে  দুই কোটির উপরে |   এই জাতির  এক মহীয়সী নারীর  নাম রানী রাসমণি দেবী   যার  দক্ষিণেশ্বর মন্দির কে  আধুনিক হিন্দুত্বের আতুর ঘর বলা চলে।    এই জাতি শিক্ষায়  দীক্ষায়   কিছুটা এগিয়ে গেলেও  সামাজিক  অস্পৃশ্যতার জন্য    দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক  হিসেবে গণ্য করা হয় | এই জাতির  এক  কৃতি পুরুষ   আলামোহন দাস এর  তৈরি কলকারখানা  বাম আমলে  ভেঙে  নষ্ট করে দেওয়া হয়। এই জাতি  পশ্চিমবাংলায়  বাম আমলে  সবচেয়ে বেশি  অত্যাচারিত  এবং বলা চলে  অর্থনৈতিকভাবে  দুর্বল  করা হয়। এই জাতি  যেই দুর্বল হয়  সঙ্গে সঙ্গে  পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।  এই জাতির  বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী  আন্দামানের  কারাগারে বন্দি ছিল  এবং মৃত্যুবরণ করেছিল।  বসন্ত বিশ্বাস  এই জাতিরই  এক  বীর সন্তান | এই জাতি   শুধু কৈবর্ত নামে  মন্ডল কমিশনের রিপোর্টে  নথিভুক্ত ছিল |   কিন্তু  মাহিষ্য ও কৈবর্ত  দুইটি একই জাতি  কিন্তু জনসংখ্যার কিছু মাত্র অংশকে  সংরক্ষণ দেওয়া হয় এবং অধিকাংশকে   উপেক্ষা করা হয় | প্রত্যেকবার ভোটের   সময়  সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি  দেওয়া হলেও  তা দেওয়া হয়  বাংলাদেশ থেকে আগত  জিহাদী এবং জামাতিদের | অতিরিক্ত পরিশ্রমি  এই জাতি  নদিয়া,  নর্থ ২৪ পরগনা,  সাউথ ২৪ পরগনা  এবং মেদিনীপুর পুরুলিয়াতে  জনসংখ্যার হিসেবে  সর্বাধিক  | 

বাংলার  আরেকটি পিছিয়ে পড়া জাতি হচ্ছে  সদগোপ |  গোপেদের  একশ্রেণি   সদগোপেরা   বাংলার  অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিকরণে  বাংলাকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে,  যার ফসল  এখনো  একশ্রেণীর  রাজনৈতিক নেতারা  খেয়ে যাচ্ছে।   আদি বাংলায়   সদগোপেরা  একটি উন্নত জাতি ছিল  এবং  বাংলার বহু এলাকায়   তারা জমিদারি,  দুগ্ধ চাষ  এবং দুগ্ধপণ্য উৎপাদনে,  বাংলাকে   স্বনির্ভর  করেছিল |   এই জাতি বাংলাকে  শিল্প বিপ্লবের মাঝখানেও  কখনো  পিছিয়ে দেয়নি।     বাংলার লড়াকু এই জাতির  এক  মহীয়সী-র নাম  রানী শিরোমনি,  যিনি  ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিপ্লবে  হিজলি কারাগারে  বন্দী ছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন |  এ জাতির আরেক অগ্রজ পুরুষের নাম  মহেন্দ্রলাল সরকার  যিনি  ইন্ডিয়ান  অ্যাসোসিয়েশন  ফর কালটিভেশন অফ সাইন্স  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন |  পশ্চিমবঙ্গের  এই বীর জাতি      মন্ডল কমিশনে    পিছিয়ে পড়া জাতি   হিসেবে নথিভুক্ত   হলেও  আজও পর্যন্ত  সংরক্ষণ  পায়নি এবং এখন  দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক ।   কিন্তু  বাংলাদেশী  জিহাদীরা  এই মুহূর্তে  এই সংরক্ষণ পায়।  

শিবের  দ্বারা  স্থাপিত  তেলি সম্প্রদায়  আজ  পশ্চিমবঙ্গে    আজ  বঞ্চিত জাতিদের মধ্যে  বোধহয় সবথেকে  পিছিয়ে |  তেল ব্যবসার সাথে জড়িত  এই সমাজ  আজকে,  বাম আমল থেকে  আরো শিরদাঁড়া হীন  একটি সমাজে পরিবর্তন করেছে |   এই জাতি শুধু পরিশ্রমের দ্বারা  আজ  সরকারি  এবং বেসরকারি  সংগঠনগুলিতে,    বিভিন্ন পদে  থাকলেও,   সংখ্যার হিসেবে  সবথেকে   নিচে,   শুধুমাত্র  সংরক্ষণ পায়নি বলে |      এই জাতির   স্বাধীনতা বিপ্লবীদের  কোনদিনও   সামনে আসতে দেওয়া হয়নি।   ভগবত প্রসাদ সাহু , ভগবান সাহুর মতো বলিদানকারীদের   আজ শুধু       ২০১৪ সালের   জাতীয়তাবাদী সরকার একমাত্র  স্বীকৃতি দিয়েছে |   মন্ডল কমিশনে  এই জাতি  পিছিয়ে পড়া জাতির মধ্যে সূচিত হলেও  এখনো সংরক্ষণ পায়নি  এবং  শিক্ষাদীক্ষায়  চাকরি  পিছিয়ে আছে | 

পশ্চিমবঙ্গে প্রান্তিক জাতিগুলি  যেমন বাউরী, বাগদি, কর্মকার নমঃশূদ্র, নাপিত, হরিজন   সংরক্ষণ পেলেও  তার সদ্ব্যবহার  কোনদিনই  সম্ভব হয়নি |   এর একটি বড় কারণ    পশ্চিমবঙ্গের  রাজনৈতিক  নেতৃত্বের  অনীহা | আমাদের বুঝতে হবে  যে এই অনীহার কারণ কি? ৬০  দশকের পর থেকে  পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতৃত্ব  দিয়ে এসেছে   তারা  যাদের ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে কোন  সম্পর্ক নেই।  তাই জাতীয়তাবাদী বোধ, এই রাজনৈতিক নেতৃত্বদের  মধ্যে কোনদিনও ছিল না |    এনাদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল  নিজেদের খিদে মেটাবার জন্য  পশ্চিমবঙ্গের ধ্বংস   উত্তীর্ণ  করা |  এনারা দলিত জাতির  কোন মানুষকে রক্ষা করেননি।  কিন্তু পরে  যখন  পূর্ব পাকিস্তানে  জিহাদি কুকুরদের  অতিরিক্ত অত্যাচারে  দলিত মানুষেরা  দলে দলে  পশ্চিমবঙ্গে  আসতে থাকেন  তখন  এই প্রবঞ্চকেরা  তাদের ধরে ধরে খুন করে। এই প্রবঞ্চকদের   নেতা  ছিলেন  বামেদের সর্বেসর্বা  দলিত খুনি মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু  |  মরিচঝাঁপি দ্বীপে  ইনি  দলিতদের  ওপর  পৃথিবীর ইতিহাসে  সবচেয়ে বড়  গণহত্যা এবং গণধর্ষণ পরিকল্পনা,  সম্পাদিত  এবং কার্যকর করেন |     ধর্ষণকে  ইনি  রীতিমতো    একটি শিল্প পর্যায় নিয়ে গেছিলেন |    সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামে   ধর্ষণকে  শিল্পায়ন করেন  বামেদের  আরো একজন নরখাদক মুখ্যমন্ত্রী  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।  আর রেট চার্ট  করে বিক্রি করেন    ২০১১ সালে  বাম বিরোধী ভোটে জেতা  বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী  , যার প্রমাণ সন্দেশখালি |   সমস্যা হচ্ছে,  এই  দুয়ারে ধর্ষণ প্রকল্পের  লক্ষ্য  কিন্তু   সেই প্রান্তিক,  গরিব দলিত পরিবারের  মেয়ে   বউয়েরা |  একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখবেন |  পশ্চিমবঙ্গের  তিনটি বৃহৎ  বিশ্ববিদ্যালয়,  যথা যাদবপুর,  কলকাতা  এবং  আইএসআই কলকাতা, কিন্তু  যখন দলিতদের নিপীড়ন  অত্যাচার  হয়  তখন আশ্চর্যজনকভাবে  এরা চুপ থাকে।  এরা চিৎকার চেঁচামেচি তখনই করে,    যখনই  এই দলিত নিপীড়িত  জাতিগুলি  হাতে লাঠি তোলে |   তখন  এদের   ভেতরে গান্ধী জেগে ওঠে   এবং লাঠি  নামাতে  তৎপর হয়ে ওঠে |  তখন এই নিপীড়িত জাতিদের  দাঙ্গাবাজ বলে  প্রতিঘাত করতেও  এদের  বিবেক দংশন  হয় না |   প্রশ্ন হচ্ছে আর কত দমন?   আর কত নিপীড়ন?   আর কত খুন?   আর কত ধর্ষণ?   তাহলে দেশের  সংসদ রা,   আইনজীবীরা  আইন রক্ষকরা,   জাজেরা  চোখ তুলে তাকাবেন।